শরীরে কিভাবে করোনা ঢুকল? কিভাবে, কোথায় ও কখন ছড়ায়

শরীরে কিভাবে করোনা ঢুকল? কিভাবে, কোথায় ও কখন ছড়ায়

“অনেকেই বলেন যে আমি তো বাসায় ছিলাম। আমার শরীরে কিভাবে করোনা ঢুকল? কিভাবে, কোথায় ও কখন করোনা ছড়ায়। এটা একটা পাবলিক হেলথ ক্রাইসিস, এটা একটা অংকের মত। এই অংক না বুঝলে আর সেই মত কাজ না করলে এটা মেডিকেল ইমারজেন্সি থেকে মেডিকেল ক্যাটাস্ট্রফি হবে। তখন এটা সামাল দেয়া যাবে না

যাই হোক, অংকটা হলঃ সফল Infection = ভাইরাসের পরিমান x সময়

মনেকরি ইনফেকটেড হবার জন্য আমাদের মাত্র ১০০০টি ভাইরাস পার্টিকেল দরকার (অনেকে বলেছেনও তাই)। কিন্তু সেই ১০০০ আমরা কোথায় পাই?

১। যখন আক্রান্ত কেউ খোলা কাশি দিল, হাচি দিল, প্রতিবারে সে 200,000,000 ভাইরাস পার্টিকেল ছেড়ে দিল বাতাসে। সেই পার্টিকেলগুলি কয়েকমিনিট ধরে ঘন্টায় ২০০ মাইল বেগে ঘুরে বেড়ায়। আপনি তখন এর ভেতর পড়লে সেখান থেকে ১০০০ নিয়ে নেয়া কোনও ব্যাপারই না।

২। কিন্তু আক্রান্ত কেউ যখন সাধারনভাবে শ্বাস নিচ্ছে, সে শুধু প্রতিমিনিটে মাত্র ২০টি ভাইরাস পার্টিকেল ছড়াবে। তার মানে ১০০০টি পার্টকেল ছড়াতে তার ১০০০/২০=৫০ মিনিট লাগবে। কিন্তু, আপনার চারপাশে আক্রান্ত লোকের সংখ্যা যত বেশি, এই সময় ততই কমবে। যদি আক্রান্ত থাকে ১০ জন, তাহলে ৫০ মিনিট/১০ = ৫ মিনিটেই আপনি ১০০০ পার্টিকেল পেয়ে যাবেন।

৩। আর কেউ যখন কথা বলবে তখন প্রতিমিনিটে সে এই শ্বাসের দশগুন, অর্থাৎ ২০০টি ভাইরাস পার্টিকেল ছড়াবে। তাহলে ১০০০ পেতে আপনার লাগবে মাত্র ১০০০/২০০=৫ মিনিট। আর যদি অফিস খুললে আপনার পাচজন কলিগের সাথে মাস্ক খুলে হা হা হি হি করে সেলফি তুলেন, আর যদি সবাই লক্ষনবিহিন ভাবে করোনা ভাইরাস বহন করে থাকেন, তাহলে মাত্র এক মিনিটেই আপনি নিয়ে নিলেন ১০০০ ভাইরাস। কারন, ৫/৫=১। আপনি মনে মনে ভাববেন যে মাত্র এক মিনিটেই? হ্যা! মাত্র এক মিনিটেই!

উপরের এই হিসাব মানুষ থেকে মানুষে, এবং রোগের অবস্থার উপর ভিত্তি করে কিছু কমবেশি হবে। কিন্তু ফর্মুলা একই। সুতরাং, যত অল্প জায়গায় বেশি মানুষ, আর সেই মানুষেরা যত বেশি পরিমানে মুখ খুলবে, ভাইরাস ততই বেশি ছড়াবে। আপনি যদি একটি বড় রূমে তিনজন কলিগের সাথে বসেন, যারা মাস্ক পড়ে এবং কথা বলে না, বা আস্তে আস্তে দূর থেকে শুধু প্রয়োজনীয় কথা বলে, তাহলে আপনার রিস্ক কম। আর আপনি যদি কলসেন্টারে কাজ করেন, ব্যাংকের বুথে সার্ভিস দেন, যেখানে অল্প জায়গায় অনেক মানুষ, তাহলে আপনার রিস্ক অনেক বেশি। যত বেশি ভাইরাস যত লম্বা সময় ধরে আপনার আশেপাশে থাকবে, আপনি তত রিস্কি। আর খোলা যায়গা, কম মানুষের জায়গায় রিস্ক কম। সুতরাং, আপনার অফিস বা সারাউন্ডিংস কেমন সেটার উপর আপনার রিস্ক নির্ভর করবে। আর মাস্ক পড়ে থাকলেও অপ্রয়োজনে কথা বলা, আড্ডাবাজি, হাহাহিহি এখন না করলেই ভাল।

এডিশনাল টিপস :

১। হাত ধোয়া নিয়ে কনফিউশান এর কিছু নেই। কমন কোথাও যখনি হাত দিবেন, সেটা এক মিনিট পরেই হোক, আর বিশ মিনিট পড়েই হোক, তখনি বিশ সেকেন্ড ধরে কচলে কচলে হাত ধুতে হবে।

২। বাকি সময় হাত গলার উপরে ওঠাবেন না। হাত থাকবে গলার নিচে। খুব আর্জেন্ট হলে ভাল করে ধুয়ে তারপর হাত গলার উপরে উঠবে। সিম্পল।

৩। আর যারা ভাবছেন যে বাকি সবার করোনা হলেও আপনার, আপনার বন্ধুদের, কলিগদের বা কাছের মানুষদের করোনা নেই বা হতে পারে না, তাদের জন্যে-
MAY ALMIGHTY BLESS YOU !!!”
Collected from Professor dr Shahin Ara

Share this post