সুরক্ষা টিপস!

সুরক্ষা টিপস!
৩১শে মে থেকে দেশে অফিস কাছারি খুলে যাচ্ছে। এতোদিন যারা লকডাউনে বাড়িতে ছিলেন, তাদের আগামীকাল থেকে কাজে যেতে হবে। অনেকেই আতঙ্ক বোধ করছে।
আমেরিকাতেও এখন লকডাউন উঠে যাচ্ছে, মানুষকে ধীরে ধীরে কাজের জগতে ফিরতেই হচ্ছে।
আমি নিজে দেড় মাস বাড়িতে ছিলাম। আমেরিকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সবচে বেশি, মৃতের সংখ্যাও সবচে বেশি। তারপরেও আমেরিকায় মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে। আমিও কাজে যোগ দিয়েছি ১লা মে তারিখে।
ভয় আমিও পেয়েছিলাম, এখন আর ভয়টা নেই, তবে সচেতনতা বেড়েছে।
আগামীকাল যারা কাজে যোগ দিতে যাচ্ছো, তাদের জন্য আমার কিছু টিপস।
** ঘরে মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার মজুত রাখুন। প্রতিদিন ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি খাওয়ার অভ্যাস করুন।
ঘরে মধু আদা, কালোজিরা, লবঙ্গ এবং লেবু মজুত রাখুন।
১) আতঙ্ক ঝেড়ে ফেলুন, শুধু করোনা সংক্রমণের ভয় এবং সচেতনতা ধরে রাখুন। সবচে বড়ো কথা, মনোবল বাড়ান। আপনি মানুষ, করোনা আপনার চেয়ে শক্তিশালী নয়।
সাধ্যমতো চেষ্টা করুন করোনাকে দূরে ঠেলে রাখতে, মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। মানুষ
২) বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে বাথরুম ঘুরে আসুন, ছোট- বড়ো কাজ নিজের বাথরুমেই সারুন।
৩) এবার দুই হাতের তালুতে স্যানিটাইজার ঘষে নিন। তারপর দুই হাতে গ্লাভস পরুন। আমার মতো লেটেক্স বা যেকোন প্লাস্টিকে স্কিন এলার্জি থাকলে আগে সূতির গ্লাভস পরুন, তার উপর প্লাস্টিকের গ্লাভস।
৪) মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক পরুন, মাস্কের সাদা দিক থাকবে ভেতরের দিকে, নীল দিক বাইরের দিকে। সার্জিক্যাল মাস্ক না থাকলে সূতি রুমাল, সূতি কাপড়, গেঞ্জির কাপড় অথবা পায়ের মোজা দিয়ে তৈরি মাস্ক পরুন চোখের নীচ থেকে থুতনি ঢেকে।
৫) মাথার চুল যেনো মুখে এসে না পড়ে, যে কোন কাপড়ে মাথা মুড়িয়ে নিন। তাতে চুলগুলোও করোনার আওতা থেকে রক্ষা পাবে।
৬) চোখে গগলস অথবা চশমা পরে নিন। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল সাথে নিন। এবার বিসমিল্লাহ বলে, অথবা জয় মা বলে বাসা থেকে বের হোন।
৭) পথে যতোই লোক সমাগম থাকুক, 'সবার আগে আমি যাবো', 'সবার আগে আমি খাবো' টাইপ চিন্তা বাদ দিয়ে সবার থেকে আলগা থাকুন।
অফিস যেতে দেরি হোক, তবুও ফাঁকা গাড়িতে উঠুন। ধরে নিন, আপনি বাদে বাকি সকলেই করোনা আক্রান্ত, তাই তাদের কাছ থেকে একটু দূরে থাকতেই হবে।
বাসে অথবা টেম্পোতে আপনার পাশের সিটে যিনি বসেছেন, তার সাথে কথা বলার দরকার নেই। দুজন দুইদিকে মুখ ঘুরিয়ে থাকুন। গন্তব্যে পৌঁছে ধাক্কাধাক্কি না করে সবার শেষে বাস থেকে নামুন।
৬) পকেট থেকে স্যানিটাইজারের বোতল বের করে অল্প স্যানিটাইজার গ্লাভস পরা হাতে ঘষে নিন।
৭) অফিসে ঢুকে এতোদিন পর কলিগদের সাথে দেখা হওয়ার আনন্দে হুমড়ি খেয়ে পড়বেন না। গ্লাভস পরা হাতেও হ্যান্ডশেক করবেন না, ঈদ চলে গেছে, ঈদের বাসি কোলাকুলিও করবেন না। মুখে মাস্ক রেখেই হাই হেলো দিবেন।
৮) এবার গুরুত্বপূর্ণ টিপস। ভুলেও মুখে হাত লাগাবেন না। যদি মুখ চুলকায়, মুখটা বগলের কাছে এনে হাতের উপরের দিকে মুখ লাগিয়ে মাস্কের উপর দিয়েই একটু ঘষে নিবেন।
মাস্ক খুলতেই হবে চা, জল, অথবা টিফিন খাওয়ার সময়। তবে মাস্ক খোলার আগে টেবিলে একখানা পরিষ্কার ন্যাপকিন রাখবেন। খাবার দাবার সব রেডি করে দুই হাতের আঙুলে কানের পাশ থেকে মাস্কের ইলাস্টিক আলতো করে ধরে মুখ থেকে মাস্ক খুলবেন। মাস্ক ফেলতে হবে না, মাস্কটা আলগোছে ন্যাপকিনের উপর রাখুন ( ছবিতে যেরকম আছে)।
খাওয়া দাওয়া শেষ হলে, দুই হাতে স্যানিটাইজার ঘষে নিন। আবার মাস্কটা আলগোছে মুখে পরে নিন।
অফিস শেষে বাড়িতে ফিরবেন একই পদ্ধতিতে, যেভাবে বাড়ি থেকে অফিসে এসেছিলেন।
বাড়ি ফিরে জুতা দরজার বাইরে রাখবেন। হাতের ব্যাগ বাইরে রাখবেন। সোজা বাথরুমে ঢুকবেন।
চোখের চশমা, সেলফোন, কলম বেসিনে রাখবেন। এরপর মাথার কাপড় থেকে শুরু করে মাস্ক, গ্লাভস, পায়ের মোজা পর্যন্ত সব খুলে বালতিতে রাখা সাবানজলে ভিজাবেন। এরপর খুব ভালো করে সাবান মেখে স্নান করবেন।
স্নান করার পর শুকনো জামাকাপড় পরে ঘরের সকলের থেকে কিছু দূরে বসে আদা লবঙ্গ মধু লেবু দিয়ে তৈরি বড়ো এক কাপ গরম চা খাবেন।
এরপর বাথরুমে গিয়ে সাবানভেজা কাপড় ধুয়ে মেলে দিন। চশমা কলম সেলফোন স্যানিটাইজার দিয়ে মুছে নিন।
সময়মতো রাতের খাবার খাবেন, নিয়ম করে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন ডি, ভিটামিন সি খাবেন। টিভিতে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখে রাত এগারোটায় বিছানায় যাবেন। বিছানায় যাওয়ার আগে লবণ গরম জলে গার্গল করুন।
প্রথম কয়েকদিন আলাদা বিছানায় ঘুমান।
** মুখের মাস্ক এবং সাথে থাকা স্যানিটাইজার আপনাকে বাইরে সুরক্ষা দিবে।
সকলের থেকে আলগা থাকার চেষ্টা আপনাকে সুরক্ষা দিবে।
কারো মুখের কাছাকাছি না যাওয়ার চেষ্টা আপনাকে সুরক্ষা দিবে।
প্রতিদিন ধোয়া মাস্ক পরে বাইরে বেরোবেন**
** প্রথম দিন বুক ধুকপুক করবে, গলা ব্যথা করবে, মাথা টনটন করবে, গা ম্যাজম্যাজ করবে।
প্রথম দুই দিন মুখে মাস্ক থাকলে দম বন্ধ অনুভূতি হবে।
প্রথম তিনদিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরে এই কাপড়চোপড় ধোয়ার কাজ করতে গেলে মেজাজ খারাপ হবে।
প্রথম তিন রাত আলাদা বিছানায় ঘুমাতে গেলে নিজেকে অচ্ছুৎ মনে হবে।
** সাতদিন পর দেখবেন, এই মাস্ক গ্লাভস এবং স্যানিটাইজার জীবনে আপনি নিজেকে অনেক বেশি নিরাপদ ভাবতে পারছেন এবং করোনাকে আর ভয় পাচ্ছেন না। আপনার মনোবল বেড়ে যাবে। **
** প্রথম প্রথম মনে হবে, প্রতিদিন লেবু আদা মধু এক্সট্রা খরচ, গরীবের চাল ডাল কিনতেই জীবন বেরিয়ে যায়, সে ভিটামিন কেনার টাকা পাবে কই?
কথা সত্য। মধ্যবিত্তের সংসারে মধু লেবু আদা, নানা জাতের ভিটামিন কেনা অতিরিক্ত খরচ মনে হয়।
কিন্তু নিয়মিত এই উপাদানগুলো খেলে অসুখ বিসুখ হবে না, ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না, চিকিৎসা খরচ বেঁচে যাবে।
জানেন তো, লেবু মধু ভিটামিন কিনে কেউ ফতুর হয় না, মানুষ ফতুর হয়ে যায় ডাক্তারের কাছে গিয়ে, হাসপাতালে গিয়ে।
** আরেকটি কথা, করোনা সহসা দূর হবে না। গবেষকগণ করোনার ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করবেনই। ততোদিন আমাদের সবাইকেই অতিরিক্ত প্রটেকশন নিয়ে সচেতনতার সাথে করোনা যুদ্ধে টিকে থাকতেই হবে।